Wednesday, October 2, 2024

জানেন কার নাম অনুসারে এই রোডের নাম ও আর নিজাম রোড হয়েছিল ,কি কি ছিলেন ,কেন তার নাম করা হয়েছিল ,জানতে চান তাহলে পোস্ট টি আপনার জন্য।

 ও আর নিজাম রোড আমরা সকলে কম বেশি ও আর নিজাম রোড চিনি তাই তো ??

জানেন কার নাম অনুসারে এই রোডের নাম ও আর নিজাম রোড হয়েছিল ,কি কি ছিলেন ,কেন তার নাম করা হয়েছিল ,জানতে চান তাহলে পোস্ট টি আপনার জন্য। 



ও আর নিজাম রোড ওবায়দুর রহমান নিজামের (১৯০২-১৯৭০) নামে, যিনি ও আর নিজাম নামে পরিচিত। তিনি প্রায় ১৫ বছর চট্টগ্রাম সিটির মেয়র ছিলেন। এ সময় এই পদটি নির্বাচিত একটি পদ চট্টগ্রাম পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে ডাকা হত। রাস্তাটি জাকির হুসেন রোড থেকে শুরু হয়ে পাঁচালাইশ থানায় শেষ হয়। এটি প্রধানত দোকান, ক্লিনিক এবং আবাসিক ভবন হোস্ট করে। এটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবন যেমন মসজিদ এবং বিদ্যালয়ের কাছাকাছি যায়।

তাহলে চলুন এইবার ওবায়দুর রহমান নিজামের সাথে পরিচয় হওয়া যাক ।😊👇

ও.আর নিজাম ১৯০৩ সালে চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
চট্টগ্রাম পৌর উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম কলেজে পড়ালেখা শেষ করে তিনি উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের জন্য যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে গমন করেন। ১ম বিশ্ব যুদ্ধের পর জীবনের তাগিদে ও.আর নিজাম তার পরিবারের সাথে রেঙ্গুন(মায়ানমার)চলে যান সেখান থেকে তিনি সিংঙ্গাপুর যান।
তিনি নিজের কর্মদক্ষতা দিয়ে সারাওয়াক রাজ্যে(বর্তমান মালয়েশিয়ার একটি প্রদেশ) বোর্নিও কোম্পানি লিমিটেড এর পরিচালক হন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি সারাওয়াকের পক্ষে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধের পর জাপান সারাওয়াক দখল করে নিলে ও.আর নিজাম গ্রেফতার হয়ে কারা অন্তরিন থাকেন। জেল থেকে মুক্তি দিয়ে দখলদার জাপানীরা তাকে সারাওয়াকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। অন্যের অধীনে না থেকে তিনি নিজ দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
১৯৪৮ সালে নিজ দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রামে গ্রাহাম ট্রেডিং কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি চট্টগ্রামের উন্নয়নে সেই থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি টার্নার গ্রাহামস, রবিনসন ফুডস এর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সংবিধান প্রণয়ন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৯ সালে প্রথম বাঙালি উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক (বর্তমান পূবালী ব্যাংক)। চট্টগ্রামের টেরীবাজার থেকে শুরু করে কিছুদিন পর আগ্রাবাদ সাত্তার চেম্বারে প্রধান কার্যালয় করা হয়। ও.আর নিজাম ১৯৬০সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মৃত্যুর আগে পর্যন্ত চট্টগ্রাম পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭২সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আসে নাম দেয়া হয় পূবালী ব্যাংক। ১৯৮৩সালে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয় এই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ। সেই থেকে ঐতিহ্যের পথ বেয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আজ অবদি পূবালী ব্যাংক মানুষের আস্থায় ১৯৫৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ৬০বছর অতিক্রম করেছে।
গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের প্রথিতযশা ব্যক্তি ওবায়দুর রহমান নিজামকে (ও.আর.নিজাম)।
তথ্য সূত্র: O.R. Nizam Trust,

এ কে খান গ্রুপের মালিক আবুল কাসেম খান সম্পর্কে জানাবো। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক।

 এ কে খান গ্রুপের কথা তো ,আমরা সবাই কম বেশি জানি ,এই গ্রুপ এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মহৎ একজন মানুষ ,আজ আপনাদের এ কে খান গ্রুপের মালিক আবুল কাসেম খান সম্পর্কে জানাবো। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক 






আবুল কাসেম খান, যিনি এ কে খান নামে সমধিক পরিচিত, বাংলাদেশের পথিকৃৎ শিল্পপতি, নির্ভীক বিচারক, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ও সমাজসেবক হিসেবে খ্যাত ১৯০৫ সালের ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রজীবনের প্রতি ধাপে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ফতেয়াবাদ হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইএ পাস করেন। চট্টগ্রাম বিভাগে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯২৭ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণীতে এমএ পাস করেন। ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যাচেলর অব ল (বিএল) ডিগ্রি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী অর্জন করেন।
তিনি শিক্ষাজীবন শেষে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জুনিয়র হিসেবে কাজ করেন। পরে বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় বাঙালি মুসলমান পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে ১৯৩৫ সালে বেঙ্গল জুডিশিয়াল সার্ভিসে মুন্সেফ পদে যোগদান করেন। একজন বিচারক হিসেবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি সবসময় সচেষ্ট ছিলেন। স্বীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য কখনো তিনি ন্যায়বিচারে আপস করেননি।
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ তপন রায় চৌধুরীর বাবা কংগ্রেস নেতা অমিয় রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার ফৌজদারি মামলা দায়ের করলে বিচারক মামলাটি আইনসম্মত হয়নি বলে নাকচ করে দেন। তপন রায় চৌধুরী তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাঙ্গালনামায়’ এ ঘটনার উপসংহারে বলেন ‘যে দুঃসাহসী বিচারক সরকারের আনা অভিযোগ নাকচ করেন, তার নাম আবুল কাসেম খান’। অপর ঘটনায় এ কে খান কোট্টম নামে একজন ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার এক ভারতীয় রাজনীতিবিদকে প্রহার করার অভিযোগে শাস্তি প্রদান করেন। সেই আমলে শ্বেতাঙ্গ আসামির ন্যায্যবিচার করে শাস্তি বিধান করা দেশী বিচারকের কাছে সহজ কাজ ছিল না। এই দুরূহ কাজ সম্পন্ন করে এ কে খান নির্ভীক ন্যায়বিচারক হিসেবে নিজের উন্নত,বলিষ্ঠ চরিত্রের পরিচয় দান করেন। এসব ঘটনায় ব্রিটিশ সরকার তাকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘পানিশমেন্ট পোস্টে’ বদলি করে। সেখানে তাকে প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।
এ কে খান উপলব্ধি করেন যে, ব্রিটিশ সরকারের আমলে ন্যায়বিচার করা তার জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তাই ১৯৪৪ সালে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দেন। ১৯৪৫ সালে তিনি এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন এবং অতি দ্রুত সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেন। পাট, বস্ত্র, শিপিং ইত্যাদি বিভিন্ন খাতে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান করেন।
এ কে খান এ দেশে প্রথম অগ্রণী বাঙালি শিল্পপতি। তার দৃষ্টান্ত তরুণ বাঙালি উদ্যোক্তাদের, যারা পাকিস্তানে অনেক বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন, বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে এবং তাদের কাছে তিনি কিংবদন্তিতে পরিণত হন। বাংলাদেশের শিল্পায়নের ব্যাপারে তিনি গভীর চিন্তাভাবনা করতেন এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রে সে বিষয়ে অনেক প্রবন্ধ লিখে গেছেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের প্রসঙ্গে তিনি এক প্রবন্ধে লিখেছিলেন‘আমাদের দেশের গরিব শ্রমিকদের প্রতি মালিকের সহানুভূতি ও একাত্মতা গড়ে তুলতে না পারলে আমরা দেশের শিল্পায়নে বড় রকমের সাফল্য অর্জন করতে পারব না। আমি মনে করি, প্রথম থেকে শিল্পের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা, সৌহার্দ্য ও দূরদর্শিতার মনোভাব নিয়ে আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।’
শিল্পপতি হিসেবে তার কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি দেশের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন। এ কে খান ১৯৪৬ সালে ভারতীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য হন। শুরু থেকে পূর্ব বাংলার প্রতি পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির তিনি কঠোর সমালোচক ছিলেন। ১৯৪৮ সালেই গণপরিষদে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরকে উন্নত করার জন্য বক্তব্য রাখেন। তার মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি ছাড়া পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক উন্নতি হবে না। ১৯৫১ সালের বাজেট আলোচনায় বিস্তারিত পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি পূর্ব বাংলাকে কিভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে তা তুলে ধরে বলেন, ‘আগামী ছয় বছরের পরিকল্পনায় পূর্ব বাংলায় যেখানে ৫৬ শতাংশ জনগণ বাস করে, সেখানে আমাদের ভাগ্যে জুটেছে শতকরা ২৩ ভাগ বরাদ্দ।’

অথচ ‘পূর্ব বাংলা বৈদেশিক মুদ্রার শতকরা ৮০ ভাগ উপার্জন করেছে’। প্রথম থেকেই তিনি পূর্ব বাংলাকে যে দেশরক্ষা খাতে বঞ্চিত করা হচ্ছে সে বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভবিষ্যতে অস্ত্রের মুখে আমাদের শাসন করার চেষ্টা করা হবে। ১৯৫১ সালেই তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি বৎসরে দেশরক্ষা খাতে প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয় করিতেছি কিন্তু ইহার ২ কোটিও পূর্ব বাংলায় খরচ হয় না।’
তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প, পূর্ত, সেচ, বিদ্যুৎ ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যখন পাকিস্তান সরকারের শিল্পমন্ত্রী ছিলেন তখন তৎকালীন পূবর্ পাকিস্তানে শিল্পায়নের জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এখানে চট্টগ্রাম ইস্পাত কারখানা ও কর্ণফুলী রেয়ন মিল স্থাপন করেন। বাঙালি উদ্যোক্তাদের সীমিত মূলধনের কারণে এ দেশে ছোট ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঢাকায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপনের প্রস্তাবকরেন, যাতে সংসদের অধিবেশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম পূর্ব বাংলা থেকেও পরিচালনা করা যায়। এরই ফলে শেরেবাংলা নগরে দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপিত হয়। বর্তমান জাতীয় সংসদ ভবন তার সাক্ষ্য বহন করছে।
এ কে খান ১৯৬১ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সাথে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে তিনি প্রেসিডেন্টকে বলেন, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে একই অর্থনীতির অধীনে শাসন করা যাবে না। কারণ এই দুই অংশের অর্থনীতি ভিন্ন। তাই পররাষ্ট্র, দেশরক্ষা ও মুদ্রানীতি বাদে আর সব মন্ত্রণালয় প্রদেশের হাতে ন্যস্ত করা উচিত। তা ছাড়া সেনাবাহিনীতে সমতা আনতে হবে অথবা পূর্ব পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বাঙালিদের দিয়ে গঠন করতে হবে। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান এসব বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব না দেয়ার কারণে তিনি ১৯৬২ সালে ক্যাবিনেট থেকে পদত্যাগ করেন। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন `I have joined the Cabinet to serve the country and not to serve Ayub Khan, and I would stay as long as I was able to serve the country.’ তিনি ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান পার্লামেন্টে একজন বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।তিনি ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং ১৯৯১ সালের ৩১ মার্চ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি পরিবার পরিজন ও বন্ধু মহলে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন।
একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন তার প্রধান লক্ষ্য ছিল। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন এই লক্ষ্য অর্জন করতে আমাদের প্রগতিশীল, শিক্ষিত, আধুনিক, সহিষ্ণু ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। এই মূল্যবোধ তার নিজের জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে এ কে খান মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতি তার দ্যর্থহীন সমর্থন প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণার সংশোধিত ইংরেজি খসড়া তিনিই প্রণয়ন করেন, যা কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান পুনঃপাঠ করেন। পাকিস্তান সরকারের সাথে কোনো আপসে রাজি না হয়ে প্রথিতযশা এই শিল্পপতি নিজের বিপুল সম্পদসহ সবকিছু ত্যাগ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দেশের সীমানা অতিক্রম করে সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার পথে যাত্রা করেন। ব্যক্তিগতভাবেও তাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। তার আপন ভাই ও তিন ভ্রাতুষ্পুত্র পাক বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান।
এ কে খান তার বিস্তীর্ণ কর্মজীবনে বিচারক, শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে সবসময় সততা, ন্যায়পরায়ণতা, কঠোর পরিশ্রম এবং কর্তব্যের প্রতি উৎসর্গিত আমাদের ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়েছেন।
এ কে খান সমাজসেবার জন্য এ কে খান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর একদিন আগে ৩০ মার্চ, ১৯৯১ সালে তার নিজের হাতে একটি উইল লিখে যান, যাতে এ কে খান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির শতকরা ৩০ ভাগ লভ্যাংশ মানবকল্যাণ তথা জনশিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দান করেন। বর্তমানে তার উত্তরসূরি সুযোগ্য সন্তানরা এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে উপরিউক্ত খাতে বিশাল অবদান রাখছেন। তিনি ৩১ মার্চ ১৯৯১ সালে ইন্তেকাল করেন।

Wednesday, April 7, 2021

চট্টগ্রামের প্রতিভাবান দাবাড়ু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ কাজী সাদেক হাসান সম্পর্ককে জানতে চেষ্টা করি

স্বাধীনতাযুদ্ধের আগের বছর চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ‘অল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নশিপ’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাত্র ১৮ বছর বয়সী কাজী সাদেক হাসান নামের একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান দাবাড়ু তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। আজকে অনেকেই তাঁর নাম জানেন না; কিন্তু এর পরের বছরই যদি তিনি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ না হতেন, তাহলে বাংলাদেশের দাবার ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হতো।


চলুন আজ আমরা প্রতিভাবান দাবাড়ু কাজী সাদেক হাসান সম্পর্ককে কিছু জানতে চেষ্টা করি :
 কাজী মোহাম্মদ সাদেক হাসান ১৬ জুলাই ১৯৫১সালে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সেই তিনি দাবা খেলা শিখেন। সেন্টপ্লাসিড স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তিনি চট্টগ্রামের সেরা জুনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর চট্টগ্রাম কলেজে পড়া কালীন সময়ে কাজী সাদেক হাসান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৭০ সালে তিনি কে.এম.শাকুরকে পরাজিত করে পূর্ব পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন হন। ছাত্র হিসেবে ও কাজী সাদেক হাসান ছিলেন অনেক ভালো। বন্ধুরা তাকে আদর করে ব্ল্যাক ডায়মন্ড ডাকতো। তিনি যে এই দেশের সত্যিই কালো  মানিক ছিলেন তার প্রমান তিনি আবারো রাখলেন আরো একবার। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে ১৯ বছর বয়সে তার দাবা খেলার  প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ৩য় স্থানটি দখল করে নেন। এবং পাকিস্তানের জাতীয় মাস্টার খেতাব অর্জন করেন এবং ব্যাক্তিগত ভাবে পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন জহিরুদ্দিন ফারুকীকে হারিয়ে এ অঞ্চলের দাবাঙ্গনে  ইতিহাস সৃষ্টি করেন।ফারুকীর সাথে তার খেলাটি আজো সাক্ষ্য দেয় তার অসামান্য দাবা প্রতিভার। এই খেলাটি প্রতিযোগিতার সেরা খেলা হিসেবে পুরষ্কৃত হয়েছিল। 
১৯৭৬ এ রাশিয়ার গ্র্যান্ডমাস্টার আনাতোলি লুতিকভ যখন বাংলাদেশ সফরে আসেন তখন তাকে কাজীর এই খেলাটি দেখানো হয়। তিনি খেলাটির ভূয়সী প্রসংশা করেন। 
কাজী Blindfold খেলতে ও খুব দক্ষ ছিলেন। তিনি রাশিয়ার ভাষা শিখেছিলেন এবং নিয়মিত  রাশিয়ান ম্যাগাজিন পড়তেন। বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে যখন কাজীকে পাঠানোর আয়োজন করা হচ্ছিলো তখনই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং দখলদার পাকবাহিনীর হাতে বাবা ও দুই চাচাসহ তিনি শহীদ হন ২৯শে মার্চ রাতে। 
ট্রাজেডি বাংলাদেশের এই প্রতিভাবান উজ্জ্বল নক্ষত্র টি স্বাধীন বাংলাদেশে দাবার ক্ষেত্রে যে অসামান্য অবদান রাখতে পারতো তা থেকে জাতি বঞ্চিত হলো। ১৯ বছর বয়সেই কালো মানিক হারিয়ে গেলো চিরতরে। 

জানেন কার নাম অনুসারে এই রোডের নাম ও আর নিজাম রোড হয়েছিল ,কি কি ছিলেন ,কেন তার নাম করা হয়েছিল ,জানতে চান তাহলে পোস্ট টি আপনার জন্য।

  ও আর নিজাম রোড আমরা সকলে কম বেশি ও আর নিজাম রোড চিনি তাই তো ?? জানেন কার নাম অনুসারে এই রোডের নাম ও আর নিজাম রোড হয়েছিল ,কি কি ছিলেন ,কেন ...